S O C R A T E S
[সক্রাতেস]
" If Brazilian football at its best is the game's platonic ideal, then it is particularly appropriate that the last time Brazil played that way was when the team was captained by a man named after Plato's favourite thinker ... – Socrates." --- Alex Bellos
আজ আমার বিশ্বকাপ দর্শনের ২৮ বৎসর পূর্তি। গুয়াদারাজালা থেকে মারাকানা এই দীর্ঘপথ অতিক্রম করে এসে আজ আমি নিঃসংশয় যে আমরা, মানে দক্ষিণ-এশিয়ার দেশের মানুষেরা, দুনিয়ার সেরা দর্শক।ইতিহাসের শুরু থেকেই আমরা সাইডলাইনের বাইরে থেকে দুনিয়ার বিচিত্র রকমসকম দেখা অভ্যাস করেছি। আর হ্যাঁ!মতামত জানিয়েছি।জয় পরাজয়ের সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসেব কষেছি। কিন্তু আমোদ-উল্লাস আর আনন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারিনি। তাই ব্রাজিল ধেরিয়ে গেলো, আর্জেন্টিনার ওই এক মেসি, মুলার যে বড় প্লেয়ার হবে আমি জানতাম, সাবেয়া প্রেডিক্তেবল, ইত্যাদি বাতেল্লায় বাঘ সিংহ মারছি। এ সবকিছুই যে আমাদের দীনতার প্রকাশ তা ভেবে দেখার অবকাশটুকুও আজ আর নেই।
এত বছরের বিশ্বকাপ দর্শন কি এতটাই শূন্য, রিক্ত। তাই বা কি করে বলি।ছিয়াশির বিশ্বকাপে যে ব্রাজিলের খেলা আমি প্রথম দেখি তখনও তার কোচ সান্তানা। তবে সে দলের ক্যাপ্টেন সেই সময় সক্রাতেস ছিল না।তবু অদৃশ্য নেতৃত্বের আরমব্যান্ড তখনও তার বাহুতে। তার উপস্থিতি, সন্তসদৃশ সমাহিত দৃষ্টি, তার অনায়াস সহজতা, রোম্যান্টিক গতিময়তা থেকে বোঝা যেত মলিন-ধূসর-হিসেবি মধ্যবিত্ত সে নয়। দেখতে দেখতে এক মুগ্ধ-বিস্ময়ের সঞ্চার হয়েছিল আজও তার মায়াজাল কাটিয়ে বেরোতে পারলাম কোই? সেই ছোটবেলায় সক্রাতেসকে দেখে মনে হত যেন যীশু খৃষ্ট। তখন তো এতুকুও জানতাম না যে সে নাস্তিক।তবু আজ ভাবি পৃথিবীতে যদি ঈশ্বর থাকে তাকে সম্ভবত সক্রাতেসের মতই দেখতে হবে।
গুয়াদারাজালায় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ। সক্রাতেস এগিয়ে এল পেনাল্টি মারতে। দু-তিন পায়ের ছোট রান-আপ। সজোরে নেওয়া শট ... কিন্তু বাটস নিজের ডান দিকে পরে যেতে যেতে বাঁ হাত দিয়ে বলটা পেয়ে গেল। একটা অস্ফুট আর্তনাদ। যেন গলায় হৃদপিণ্ড এসে ঠেকেছে। কিছুক্ষণের সেই উত্তেজনা ... আবার সাম্বার সমাহিত ছন্দে ফিরে আসা।
মানুষের বোধহয় এমন ঈশ্বরেরই প্রয়োজন যাকে তার ব্যর্থতা দিয়ে, পরাজয়ের গ্লানিবোধের মধ্য দিয়ে গ্রহন করা যায়।সাফল্য, ট্রফি জেতা, ট্রান্সফার ফি, ব্যালান্স সিট, জীবনের মত ফুটবলকেও আমরা বড় বেশি প্রতিযোগী করে তুলেছি। দুটোকে হয়ত আলাদা করা যায়না তবু রোম্যান্টিক হতে কে আটকায়...
“Is that why you have come all this way? To discover whether it is more important to win or to play beautiful football?” he [Socrates] recently asked a British journalist who had travelled to Brazil to meet him. “Beauty comes first. Victory is secondary. What matters is joy.” -- The Daily Telegraph
[This is a repost from my facebook account: https://www.facebook.com/pritam.mukherjee ]
[সক্রাতেস]
" If Brazilian football at its best is the game's platonic ideal, then it is particularly appropriate that the last time Brazil played that way was when the team was captained by a man named after Plato's favourite thinker ... – Socrates." --- Alex Bellos
আজ আমার বিশ্বকাপ দর্শনের ২৮ বৎসর পূর্তি। গুয়াদারাজালা থেকে মারাকানা এই দীর্ঘপথ অতিক্রম করে এসে আজ আমি নিঃসংশয় যে আমরা, মানে দক্ষিণ-এশিয়ার দেশের মানুষেরা, দুনিয়ার সেরা দর্শক।ইতিহাসের শুরু থেকেই আমরা সাইডলাইনের বাইরে থেকে দুনিয়ার বিচিত্র রকমসকম দেখা অভ্যাস করেছি। আর হ্যাঁ!মতামত জানিয়েছি।জয় পরাজয়ের সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসেব কষেছি। কিন্তু আমোদ-উল্লাস আর আনন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারিনি। তাই ব্রাজিল ধেরিয়ে গেলো, আর্জেন্টিনার ওই এক মেসি, মুলার যে বড় প্লেয়ার হবে আমি জানতাম, সাবেয়া প্রেডিক্তেবল, ইত্যাদি বাতেল্লায় বাঘ সিংহ মারছি। এ সবকিছুই যে আমাদের দীনতার প্রকাশ তা ভেবে দেখার অবকাশটুকুও আজ আর নেই।
এত বছরের বিশ্বকাপ দর্শন কি এতটাই শূন্য, রিক্ত। তাই বা কি করে বলি।ছিয়াশির বিশ্বকাপে যে ব্রাজিলের খেলা আমি প্রথম দেখি তখনও তার কোচ সান্তানা। তবে সে দলের ক্যাপ্টেন সেই সময় সক্রাতেস ছিল না।তবু অদৃশ্য নেতৃত্বের আরমব্যান্ড তখনও তার বাহুতে। তার উপস্থিতি, সন্তসদৃশ সমাহিত দৃষ্টি, তার অনায়াস সহজতা, রোম্যান্টিক গতিময়তা থেকে বোঝা যেত মলিন-ধূসর-হিসেবি মধ্যবিত্ত সে নয়। দেখতে দেখতে এক মুগ্ধ-বিস্ময়ের সঞ্চার হয়েছিল আজও তার মায়াজাল কাটিয়ে বেরোতে পারলাম কোই? সেই ছোটবেলায় সক্রাতেসকে দেখে মনে হত যেন যীশু খৃষ্ট। তখন তো এতুকুও জানতাম না যে সে নাস্তিক।তবু আজ ভাবি পৃথিবীতে যদি ঈশ্বর থাকে তাকে সম্ভবত সক্রাতেসের মতই দেখতে হবে।
গুয়াদারাজালায় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ। সক্রাতেস এগিয়ে এল পেনাল্টি মারতে। দু-তিন পায়ের ছোট রান-আপ। সজোরে নেওয়া শট ... কিন্তু বাটস নিজের ডান দিকে পরে যেতে যেতে বাঁ হাত দিয়ে বলটা পেয়ে গেল। একটা অস্ফুট আর্তনাদ। যেন গলায় হৃদপিণ্ড এসে ঠেকেছে। কিছুক্ষণের সেই উত্তেজনা ... আবার সাম্বার সমাহিত ছন্দে ফিরে আসা।
মানুষের বোধহয় এমন ঈশ্বরেরই প্রয়োজন যাকে তার ব্যর্থতা দিয়ে, পরাজয়ের গ্লানিবোধের মধ্য দিয়ে গ্রহন করা যায়।সাফল্য, ট্রফি জেতা, ট্রান্সফার ফি, ব্যালান্স সিট, জীবনের মত ফুটবলকেও আমরা বড় বেশি প্রতিযোগী করে তুলেছি। দুটোকে হয়ত আলাদা করা যায়না তবু রোম্যান্টিক হতে কে আটকায়...
“Is that why you have come all this way? To discover whether it is more important to win or to play beautiful football?” he [Socrates] recently asked a British journalist who had travelled to Brazil to meet him. “Beauty comes first. Victory is secondary. What matters is joy.” -- The Daily Telegraph
[This is a repost from my facebook account: https://www.facebook.com/pritam.mukherjee ]
Comments